Back to Activities
Olympic Day 2026

Olympic Day 2026

27 Jun 2026

অলিম্পিক ডে ২০২৬

আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন (বিওএ) ২৭ জুন ২০২৬ (শনিবার) তারিখে ঢাকায় যথাযোগ্য মর্যাদায় অলিম্পিক ডে ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে। এ বছরের অলিম্পিক ডে-এর প্রতিপাদ্য হলো “You Can Do This, Let’s Move!”, যার মাধ্যমে সকল বয়সী মানুষকে নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড, খেলাধুলা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।


সকাল ৭:০০ ঘটিকায় ঢাকাস্থ বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত র‌্যালী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অলিম্পিক ডে ২০২৬-এর কার্যক্রম শুরু হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশনের সম্মানিত সভাপতি ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, এসবিপি, ওএসপি, এসজিপি, পিএসসি। পতাকা উত্তোলন ও বেলুন উড্ডয়নের মাধ্যমে অলিম্পিক ডে ২০২৬-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।


অলিম্পিক ডে র‍্যালি বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়াম থেকে শুরু হয়ে এয়ারপোর্ট রোড হয়ে স্টাফ রোড লেভেল ক্রসিং প্রদক্ষিণ করে পুনরায় বাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়ামে এসে শেষ হয়। র‍্যালিতে দেশের বিভিন্ন জাতীয় ক্রীড়া ফেডারেশনের ক্রীড়াবিদ, অলিম্পিয়ান, প্রশিক্ষক, ক্রীড়া সংগঠক, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ, সামরিক ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, স্কুল কলেজে ছাত্র ছাত্রী এবং ক্রীড়াপ্রেমী মানুষসহ প্রায় ১,৫০০-এর অধিক অংশগ্রহণকারী উপস্থিত ছিলেন। র‍্যালী শেষে অংশগ্রহণকারীদের মাঝে সার্টিফিকেট ও হালকা আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়। অনুষ্ঠানে স্কুল শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনী সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এছাড়া বাংলাদেশ কারাতে, তায়কোয়ান্দো এবং উশু ফেডারেশনের খেলোয়াড়রা নিজেদের খেলার চিত্তাকর্ষক প্রদর্শনী পরিবেশন করেন।


অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের অলিম্পিয়ানগণ তাঁদের অভিজ্ঞতা ও স্মৃতিচারণ করেন এবং নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলার মাধ্যমে নিজেদের গড়ে তোলার আহ্বান জানান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) প্রতিনিধি শারীরিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন। এছাড়া যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের প্রতিনিধিগণও বক্তব্য রাখেন।


অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে প্রধান অতিথি দেশের গর্বিত অলিম্পিয়ানদের মাঝে সম্মাননা স্বরূপ সার্টিফিকেট প্রদান করেন। পরবর্তীতে তিনি তাঁর বক্তব্যে অলিম্পিকের মূল্যবোধ Excellence, Friendship এবং Respect দেশের সর্বস্তরের মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং সকলকে নিয়মিত শরীরচর্চা, খেলাধুলা ও শারীরিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও সক্রিয় জীবনধারা গড়ে তোলার আহ্বান জানান। প্রধান অতিথি বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনের উন্নয়নে বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন যুগান্তকারী উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং আন্তর্জাতিক মানের ক্রীড়া অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে ময়মনসিংহের ত্রিশালে বাংলাদেশ অলিম্পিক কমপ্লেক্স নির্মাণে সরকারের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি আরও বলেন, একটি সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও মাদকমুক্ত সমাজ বিনির্মাণে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই। যুবসমাজকে মাদক ও অন্যান্য সামাজিক অবক্ষয় থেকে দূরে রাখতে এবং তাদের দেশপ্রেম, শৃঙ্খলা ও নৈতিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে ক্রীড়ার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এ লক্ষ্যে সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে এই ক্রীড়া আন্দোলনকে আরও বেগবান করার আহ্বান জানান। তিনি কারাতে, তায়কোয়ানডো ও উশু ফেডারেশনের ক্রীড়াবিদদের মনোমুগ্ধকর প্রদর্শনীর ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং তাঁদের উৎসাহিত করার লক্ষ্যে নিজ উদ্যোগে একদিনের জন্য পদ্মা AWT রিসোর্টে ভ্রমণ ও রিভার ক্রুজের পৃষ্ঠপোষকতা করার ঘোষণা প্রদান করেন।


উল্লেখ্য, ঢাকায় কেন্দ্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি একই সময়ে দেশের চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর এবং ময়মনসিংহ বিভাগীয় শহরেও অলিম্পিক ডে উপলক্ষ্যে র‍্যালি ও বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এর মাধ্যমে সারাদেশে অলিম্পিক আন্দোলনের চেতনা, শারীরিক সুস্থতা এবং খেলাধুলার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা হয়।


অনুষ্ঠানের সফল আয়োজন ও বাস্তবায়নে স্কয়ার গ্রুপ এবং ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করেছে। বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন দেশের ক্রীড়া ও অলিম্পিক আন্দোলনের বিকাশে তাদের এ মূল্যবান সহযোগিতার জন্য আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছে।


অলিম্পিক ডে ২০২৬ উদযাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশ অলিম্পিক এসোসিয়েশন দেশের জনগণের মধ্যে অলিম্পিক মূল্যবোধ, সুস্থ জীবনধারা এবং নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।